শিক্ষা

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক ৭ম শ্রেণী ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন

৭ম শ্রেণী সমাজ ৫ম অধ্যায় : বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক 

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক সৃজনশীল প্রশ্ন ১ :

সাহেব একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তা। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিরাজ তাকে একটি কাজে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ঘুষ প্রদানক রতে উদ্যত হয়।

জনাব রফিক তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন এবং বন্ধু মিরাজকে বলেনএরূপ কাজ থেকে সবারই বিরত থাকা উচিত এবং দেশের স্বার্থে কাজ করা উচিত। জনাব মিরাজ তার ভুল বুঝতে পারেন এবং লজ্জিত হন।

ক. মৌলিক অধিকার কী?
খ. ধর্মান্ধতা সুনাগরিকতার একটি অন্তরায় ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে সুনাগরিকতার কোন গুণটি জনাব রফিকের মধ্যে রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত গুণটি ছাড়া সুনাগরিকের অন্যান্য গুণসমূহ ব্যাখ্যা কর।

৭ম শ্রেনী ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধানঃ

ক. বাংলাদেশের সংবিধানে যে অধিকাগুলো উল্লেখ করা আছে সেগুলোই মৌলিক অধিকার।
খ. সুনাগরিকতার বিকাশে ধর্মান্ধতা একটি বিরাট অন্তরায়। ধর্মান্ধতা ব্যক্তিকে অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে।

এ ধরনের মনোভাব বিভিন্ন ধর্মের লোকের মধ্যে বিচ্ছেদ ও সংঘাত সৃষ্টি করে।

এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের সংহতি, উন্নতি, ও প্রগতিকে বিনষ্ট করে।

গ. উদ্দীপকে রফিকের মধ্যে সুনাগরিকতার আত্মসংযম গুণটি রয়েছে।
সুনাগরিকতার অন্যতম গুণ হলো আত্মসংযম। সুনাগরিক হতে হলে আত্মসংযমী হতে হবে।
এ গুণ নাগরিককে অসৎ কাজ যেমন- দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা, পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি থেকে বিরত রাখে।
দেশ ও সমাজের স্বার্থে কাজ করতে নিয়ম মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করে। আত্মসংযমী নাগরিক নিয়ম-কানুন মেনে চলে।  দেশের স্বার্থকে নিজের
স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।
অন্যান্য কাজ ও দলীয় স্বার্থপরতা থেকে বিরত থাকে। উদ্দীপকের রফিক সাহেব একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তা।
তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিরাজ তাকে একটি কাজে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ঘুষ দিতে চাইলে জনাব রফিক তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
রফিক সাহেবের এ গুণটি সুনাগরিকতার অন্যতম গুণ আত্মসংযমকেই নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত আত্মসংযম ছাড়াও সুনাগরিকের আরও দুইটি মৌলিক গুণ রয়েছে।
সুনাগরিক হতে হলে একজন নাগরিককে তিনটি মৌলিক গুণের অধিকারী হতে হয়।
যথা- বুদ্ধি, আত্মসংযম এবং বিবেক-বিচার। উদ্দীপকে রফিক সাহেব তার বন্ধু মিরাজ ঘুষ দিতে চাইলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
এতে বোঝা যায় রফিক সাহেবের মধ্যে আত্মসংযম গুণটি রয়েছে। এটি ছাড়া নাগরিকের অন্যতম গুণ হলো বুদ্ধি।
বুদ্ধিমান নাগরিক যে কোনো রাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
এ গুণ থাকলে একজন নাগরিক উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন, দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সফলতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখতে পারে।
নাগরিকের আরেকটি গুণ হলো বিবেক-বিচার অর্থাৎ ভালো মন্দের জ্ঞান, দায়িত্ব-কর্তব্যের জ্ঞান।

 

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, সুনাগরিক হতে হলে আত্মসংযম ছাড়াও বুদ্ধি ও বিচার-বিবেক গুণ দুটিও অর্জন করতে হবে।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক সৃজনশীল প্রশ্ন ২ :

‘ক’ উপজেলার UNO সাহেব ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। অথচ অধ্যাপক কামাল দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন।
তিনি সকল ধর্ম বর্ণের শিক্ষার্থীদের সমান চোখে দেখেন। তিনি অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
ক. বুদ্ধিমত্তা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় কী?
খ. একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুনাগরিক গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. UNO সাহেবের মধ্যে সুনাগরিকের কোন গুণের অভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “অধ্যাপক কামালের চরিত্রে সুনাগরিকের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিদ্যমান নয়”- তুমি কি উক্তিটির সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ৭ম শ্রেনী সৃজনশীল প্রশ্ন সমাধান :

ক. বুদ্ধিমত্তা অর্জনের সবচেয়ে বড় উপায় হলো শিক্ষা লাভ করে জ্ঞান অর্জন করা।
খ. সুনাগরিকের পক্ষেই দেশের আর্থ-সামাজিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে ভূমিকা পালন করা সম্ভব বলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুনাগরিক গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
একজন সুনাগরিক সহজেই আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলো বুঝতে পারে এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা, বিবেক-বিচারবোধ ইত্যাদির সাহায্যে এসব সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশিত ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করতে পারে।
এজন্য দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুনাগরিক, গুরুত্বপূর্ণ।
গ. UNO সাহেবের মধ্যে আত্মসংযমের অভাব রয়েছে।
সুনাগরিক হওয়ার জন্য নাগরিকের মধ্যে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি।
একজন নাগরিকের মধ্যে তিনটি মৌলিক গুণ অর্থাৎ বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম থাকলে তাকে সুনাগরিক বলা যাবে।
কেননা, বুদ্ধিমান নাগরিক দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
আবার আত্মসংযম নাগরিককে যে কোনো অসৎ কাজ (যেমন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা, পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি) থেকে বিরত রাখে।

 

উদ্দীপকের UNO সাহেব সরকারি কাজে ঘুষ গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে তিনি নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দুর্নীতি করেছেন।
অর্থাৎ তার মধ্যে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ আত্মসংযমের অভাব আছে।
ঘ. হ্যাঁ আমি মনে করি অধ্যাপক কামাল এর চরিত্রে সুনাগরিকের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিদ্যমান নয়।
সুনাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; যেমন: নিলিপ্ততা, ব্যক্তি স্বার্থপরায়ণতা, দলীয় মনোভাব, অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতা, ধর্মান্ধতা, দাম্ভিকতা, সাম্প্রদায়িকতা।
একজন নির্লিপ্ত নাগরিক তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি উদাসীনতা থাকে।
অন্যদিকে ব্যক্তি স্বার্থপর মনোভাবের হলে সে নিজের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় করে
দেখে।
যে কারণে তার পক্ষে নিজের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় না।
আমাদের দেশের এক তৃতীয়াংশ নাগরিক নিরক্ষর, যা সুনাগরিকতার পথে একটি বড় বাধা।
আবার ধর্মান্ধতা ব্যক্তিকে অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে। দাম্ভিকতার ফলে ব্যক্তি নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় করে দেখে, অন্যের মতামতের গুরুত্ব দেয় না।
উদ্দীপকের অধ্যাপক কামাল দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন।
তিনি সকল ধর্ম-বর্ণের শিক্ষার্থীদের সমান চোখে দেখেন এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার ভিতরে সুনাগরিকতার কোনো প্রতিবন্ধকতা প্রকাশ পায় নি।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায় যে, অধ্যাপক কামালের চরিত্রে সুনাগরিকের প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিদ্যমান নয়।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক সৃজনশীল প্রশ্ন  ৩ :

ফারুক সাহেবের এলাকার প্রায় ৮০% লোক শিক্ষিত।
গত নির্বাচনে করিম ও রহমানের মধ্যে করিম যোগ্য বলে ফারুক সাহেবের এলাকার মানুষ তাকে নির্বাচিত করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে দলীয় লোকের পরিবর্তে যোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।
ক. বুদ্ধিমত্তা লাভের সবচেয়ে বড় উপায় কোনটি?
খ. বিবেক বলতে কী বোঝায়?
গ. ফারুক সাহেবের এলাকার নাগরিকদের মধ্যে কোন ধরনের কর্তব্যপরায়ণতা লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “করিম একজন সুনাগরিক”-বিশ্লেষণ কর।
৭ম শ্রেনী সমাজ ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ৩  সমাধান :

 

ক. বুদ্ধিমত্তা লাভের সবচেয়ে বড় উপায় হলো শিক্ষা লাভের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা।
খ. বিবেক বলতে বোঝায় ভালো-মন্দ ও দায়িত্ব-কর্তব্যের জ্ঞান।
বিবেক হলো সুনাগরিকের জাগ্রত শক্তি।
কোনো কাজ ভালো না মন্দ তা নাগরিকরা বিবেকের মাধ্যমে বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা মন্দ কাজ বর্জন করে এবং ভালো কাজে উৎসাহী হয়।
গ. ফারুক সাহেবের এলাকার নাগরিকদের মধ্যে যে কর্তব্যপরাণয়তা লক্ষ করা যায় তা হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এদেশের প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।

 

কর্তব্যগুলো হলো— রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, আইন মেনে চলা, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা, নিয়মিত কর প্রদান, সরকারি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা এবং সন্তানদের শিক্ষাদান করা প্রভৃতি।
উদ্দীপকের ফারুকের এলাকার প্রায় ৮০% শিক্ষিত। গত নির্বাচনে করিম ও রহমানের মধ্যে করিম যোগ্য লোক বলে ঐ এলাকার মানুষ তাকে নির্বাচিত করে।

এক্ষেত্রে ফারুক সাহেবের এলাকার মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে করিমকে নির্বাচিত করেছে।

 

তাই বলা যায়, ফারুক সাহেবের এলাকার নাগরিকদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ কর্তব্য পালনের বিষয়টি লক্ষ করা যায়।

ঘ. করিমের মধ্যে বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক-বিচার প্রভৃতি গুণাবলি থাকায় তাকে সুনাগরিক বলা যায়।
সুনাগরিক হতে হলে তিনটি মৌলিক গুণের অধিকারী হতে হয়।
যথা: বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক-বিচার। বুদ্ধিমান নাগরিক দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সফলতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক 

অন্যদিকে আত্মসংযম নাগরিককে যে কোনো ধরনের অসৎ কাজ, যেমন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা, পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি থেকে বিরত রাখে।

উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের এলাকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ যোগ্য লোক হিসেবে করিম সাহেবকে নির্বাচিত করেছেন।

নির্বাচিত হওয়ায় করিম সাহেব বুদ্ধিমত্তা ও বিবেক বিচারের সাথে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়মূলক কাজ করেছেন।

 

আর এসব কাজে তিনি সংযমের সাথে যোগ্য লোককে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দলের লোকদের প্রতি তিনি পক্ষপাতিত্ব করেন নি।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, করিম সাহেবের কর্মকাণ্ডে সুনাগরিকের গুণাবলি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই করিম একজন সুনাগরিক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.